সিরাজগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মমুখী শিক্ষার্থী গড়ে তোলার মাধ্যমে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষা-কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষার চর্চার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রস্তুত করে।
প্রতিষ্ঠানটি সিরাজগঞ্জ জেলার একডালা, কালিবাড়ী এলাকায় অবস্থিত। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের বিটিইবি কোড ২৫০৩৯ এবং ইআইআইএন নম্বর ১৩২৮৩৫। শিক্ষা-প্রশাসন, শিক্ষার্থী-কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল tsc.sirajganj@gmail.com, ওয়েবসাইট www.tsc.sirajganj.gov.bd এবং ফোন/মোবাইল নম্বর 02588830137 ও 01715081601 ব্যবহৃত হয়।
আমাদের পরিচয়: এসএসসি ১০ ব্যাচ কমিউনিটি
আমরা এই প্রতিষ্ঠানের এসএসসি ১০ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সময়ের সাথে আমাদের মধ্যে অনেকে উচ্চশিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন—কেউ দেশেই, কেউ দেশের বাইরে। কিন্তু আমাদের শিকড় একই: সিরাজগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান আমাদের শিখিয়েছে শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং পরিশ্রমের মূল্য। সেই স্মৃতি, বন্ধুত্ব এবং সম্মিলিত পরিচয়কে ধরে রাখতেই আমরা “এসএসসি ১০ ব্যাচ” কমিউনিটি/গ্রুপটি গড়ে তুলেছি।
এই গ্রুপটি শুধু একটি সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি আমাদের ব্যাচের একটি সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা একে অপরের সাথে নিয়মিত যুক্ত থাকি, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াই, এবং প্রতিষ্ঠান ও সমাজের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যাচ কমিউনিটি শক্তিশালী হলে—সদস্যরাও শক্তিশালী হয়, আর প্রতিষ্ঠানও সম্মানিত হয়।
আমরা কী করি
আমাদের গ্রুপের কার্যক্রম মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়:
- যোগাযোগ ও সংযোগ বজায় রাখা
অনেক বছর পরেও সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা নিয়মিত তথ্য আপডেট, সদস্যদের খোঁজখবর, নতুন-পুরনো বন্ধুদের সংযোগ তৈরি—এসব কাজকে গুরুত্ব দিই। কার কোথায় কর্মস্থল, কে কোন বিষয়ে সহায়তা করতে পারেন—এসব তথ্য একত্রে রাখার মাধ্যমে যোগাযোগ আরও সহজ হয়। - পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেটওয়ার্কিং
চাকরি, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা বা দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একজন সহপাঠীর অভিজ্ঞতা অন্যের জন্য বড় সহায়তা হতে পারে। আমরা চেষ্টা করি—সুযোগের তথ্য শেয়ার করতে, প্রয়োজন হলে গাইড করতে, এবং একে অপরকে নৈতিক সমর্থন দিতে। এটি আমাদের ব্যাচের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। - মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ
মানবিক কাজ আমাদের কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রক্তদানের মতো সহায়তা দ্রুত প্রয়োজন হয়। তাই আমরা ব্যাচের রক্তদাতা তালিকা তৈরি, রক্তের অনুরোধ সমন্বয় এবং জরুরি সহায়তার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার উদ্যোগেও আমরা অংশগ্রহণ করতে চাই। - পূর্ণমিলনী ও স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন
সময়ের ব্যবধানে প্রিয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, বন্ধু—সবকিছুই স্মৃতিতে পরিণত হয়। পূর্ণমিলনী সেই স্মৃতিকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনার একটি সুন্দর উপলক্ষ। আমরা পূর্ণমিলনী আয়োজনের মাধ্যমে পুরনো বন্ধুদের একত্র করি, স্মৃতিচারণ করি, আনন্দ ভাগ করি এবং নতুন পরিকল্পনার জায়গা তৈরি করি। এই আয়োজন আমাদের ব্যাচের ঐক্য, ভালোবাসা ও সম্মিলিত পরিচয়কে আরও শক্ত করে। - প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান ও ইতিবাচক ভূমিকা
আমরা চাই আমাদের প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করতে, প্রতিষ্ঠানের অর্জনকে তুলে ধরতে, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে। সুযোগ হলে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, পরামর্শ বা সহযোগিতামূলক কাজেও যুক্ত হতে চাই—যাতে আমাদের পরিচিতি শুধু ব্যাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিষ্ঠান ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আমাদের লক্ষ্য ও অঙ্গীকার
আমাদের লক্ষ্য হলো—বন্ধুত্ব ও পরিচয়কে দীর্ঘস্থায়ী করা, একটি কার্যকর ব্যাচ নেটওয়ার্ক তৈরি করা, এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সবাইকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করা। আমরা বিশ্বাস করি—
- আমরা যত বেশি একে অপরের পাশে থাকব, তত বেশি শক্তিশালী হবে আমাদের কমিউনিটি
- মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ আমাদের পরিচয়কে সম্মানিত করে
- পূর্ণমিলনী ও নিয়মিত সংযোগ আমাদের স্মৃতিকে জীবন্ত রাখে
- ব্যাচের ঐক্য প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও পরিচিতিও বাড়ায়
আমাদের এই কমিউনিটি—একটি স্মৃতি, একটি বন্ধন, এবং একটি দায়িত্ব। আমরা চাই “এসএসসি ১০ ব্যাচ” শুধুমাত্র একটি ব্যাচ হিসেবে নয়, বরং সহযোগিতা, মানবিকতা ও ইতিবাচক উদ্যোগের একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিত হোক।